শুক্রবার, ২০২৫ এপ্রিল ০৪, ২১ চৈত্র ১৪৩১
#
জেলা-উপজেলা জেলা-উপজেলা

রাউজান পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ৫৩টি পূজা মণ্ডপসহ চলতি বছর উপজেলায় ২২৯টি পূজা মণ্ডপে ঢাক, ঢোল বাজিয়ে মা দুর্গাকে বরণ করতে অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা

শারদীয় দূর্গোৎসবকে ঘিরে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছে না রাউজানের প্রতিমা শিল্পীরা

নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান (চট্টগ্রাম):
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২০২৪ অক্টোবর ০৩, ০৪:২৬ অপরাহ্ন
#

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতীমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রামের রাউজানের  প্রতীমা শিল্পীরা। শেষ মুহুর্তের ব্যস্ততায় দম ফেলার ফুরসত না পেলেও কাঠ, বাঁশ, রঙ, দড়ি, পেরেকসহ প্রতীমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি কারিগর ও সহযোগীদের মজুরি খরচ বাড়তে থাকায় খুব একটা ভালো নেই বংশ পরম্পরায় এই পেশা আঁকড়ে ধরে থাকা কারিগররা। দিনরাত কষ্ট করেও আশানুরূপ উপার্জন না হওয়ায় পেশা পরিবর্তনের ভাবনার কথা জানালেন প্রবীণ কারিগররা। 
আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হতে
যাচ্ছে সনাতনী সস্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজার দিনক্ষণ গনিয়ে আসার সাথে সাথে রাউজানের প্রতীমার কারিগরদের কর্মযজ্ঞে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। উপজেলার বিভিন্নস্থানের কারিকালয়ে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি চলছে প্রতীমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কর্মব্যস্ততা। দক্ষ প্রতীমা শিল্পীদের সূনিপুণ হাতের জাদুকরী ছোঁয়ায় প্রতিটি প্রতিমায় ফুটে উঠছে জীবন্ত অবয়ব।
দীর্ঘ সময় ধরে এই পেশায় আঁকড়ে থাকা অনিল পাল, নান্টু পালসহ বেশ কয়েকজন প্রতীমা শিল্পী জানান, চলতি পূজার মৌসুমে প্রতীমা তৈরীর অর্ডার অন্যন্য বারের চাইতে কিছুটা কমেছে। তারপরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্ডার নেওয়া প্রতিমাগুলো ডেলিভারি দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।
পূজার দিনক্ষণ যতই গনিয়ে আসছে দিনের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত কারখানাগুলোতে কাজ চলছে ।

প্রতিমা শিল্পী পুলক পাল জানান, রঙয়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। এরপর প্রতিমাগুলো নিয়ে যাওয়া হবে পূজা মন্ডপগুলোতে।
গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার সবচেয়ে বড় প্রতীমা তৈরির কারখানা নোয়াপাড়ার পল্লী মঙ্গল সমিতির মাঠের অনিল পাল শিল্পালয়,
উপজেলা সদরের ফকিরহাট বাজারের থানা রোডের অপরূপা কারিকালয়, জলিলনগর, শরতের দোকানসহ আরো বেশ কিছুস্থানে কারিকালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরী করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। ডিজাইন আর আকারভেদে একেকটি প্রতিমার অর্ডার নিয়েছেন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৭০/৮০ হাজার টাকায়।পূজা কমিটির চাহিদানুযায়ী নানা ডিজাইনের প্রতিমা তৈরি করতে দম ফেলার ফুরসতই যেন পাচ্ছেনা প্রতীমা শিল্পীরা।

প্রতীমা তৈরীর খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসারের কাজ সামলানোর পাশাপাশি স্বামী আর সন্তানদের সহযোগিতা করতে কাজ করছেন নারীরাও।
প্রতীমা শিল্পী নান্টু পালের স্ত্রী অঞ্জু রানী পাল জানান, বর্তমানে সবকিছুর খরচ বেড়েছে। এখন আর আগের সুদিন নেই। তাই বাড়তি খরচের কিছুটা লাগাম টানতে সংসারের কাজকর্ম সেরে অবসর সময়টুকুকে স্বামী আর সন্তানকে সহযোগিতা করি।
বংশ পরম্পরায় দীর্ঘ তিন যুগ ধরে প্রতীমা তৈরী করে আসা অভিজ্ঞ মৃৎশিল্পী অনিল পাল জানান, এবার শারদীয় দুর্গপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন সাইজ ও ডিজাইনের ৪০টি প্রতীমা তৈরীর অর্ডার পেয়েছেন। দুটি কারখানায় ১৫/১৬ জন সহযোগী নিয়ে প্রতীমা তৈরীতে দিনে-রাতে কাজ করছেন তিনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, প্রতীমা তৈরীতে শিল্পী ও সহযোগীদের পারিশ্রমিক বেড়েছে, পাশাপাশি প্রতীমায় ব্যবহৃত খড়, কাঠ, সুতো, বাঁশ, পেরেক, মাঠি, কাপড়, সিমেন্ট, পেরেক, রঙের খরচ তুলনামূলক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন-রাত পরিশ্রম করেও লাভ তেমন একটা হয়না। এই সংকট বাড়তে থাকলে আগামীতে এই শিল্পে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান এই প্রবীণ প্রতিমার কারিগর।
শিল্পী কমল পাল জানান, এই পেশার সাথে একটা নেশা জড়িয়ে গেছে। অনেকেই আর্থিক টানাপোড়েনে এই পেশা ত্যাগ করলেও আমরা দুঃখ কষ্টের মাঝেও পেশাটা আঁকড়ে ধরে আছি যদি সুদিন ফিরে আসে এই আশায়।
আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতিটি এলাকায় চলছে পূজা আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি। রাউজান পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ৫৩টি পূজা মণ্ডপসহ চলতি বছর উপজেলায় ২২৯টি পূজা মণ্ডপে ঢাক, ঢোল বাজিয়ে মা দুর্গাকে বরণ করতে অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা। ১৩ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণিল পূজা উৎসব।

 

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

আরও খবর

Video